এক্সিকিউটিভ থেকে লিডার হওয়ার উপায়
একই অফিসে কাজ করা দুইজন মানুষকে দেখলে অনেক সময় অবাক হতে হয়। একজন ধীরে ধীরে দায়িত্ব বাড়াচ্ছে, সিদ্ধান্তে যুক্ত হচ্ছে, অন্যজন একই দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর একই পদে রয়ে যাচ্ছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, ভাগ্য বা তেলবাজিই হয়তো পার্থক্য তৈরি করছে। বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি সূক্ষ্ম এবং গভীর।
অধিকাংশ কর্মী নিজের কাজটা ঠিকঠাক করাকেই ক্যারিয়ারের একমাত্র শর্ত মনে করে। তারা ধরে নেয়, ভালো কাজ করলে স্বাভাবিকভাবেই পদোন্নতি আসবে। কিন্তু আধুনিক অফিস পরিবেশে কাজের মান যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আপনি কীভাবে চিন্তা করেন এবং সিদ্ধান্তের সাথে নিজেকে কীভাবে যুক্ত করেন। এখানেই একজন এক্সিকিউটিভ আর একজন লিডারের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।
এক্সিকিউটিভরা সাধারণত নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন। তাদের কাজ নির্দিষ্ট, দায়িত্ব সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে, যাদের লিডার হিসেবে দেখা হয়, তারা শুধু কাজ করেন না—তারা কাজের প্রভাব বোঝেন। তারা প্রশ্ন করেন, “এই সিদ্ধান্তের ফল কী হবে?” বা “এটা কোম্পানির জন্য দীর্ঘমেয়াদে কী মানে রাখে?” এই চিন্তার জায়গাটাই তাদের আলাদা করে তোলে।
অফিসে যারা এগিয়ে যায়, তাদের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তারা সমস্যার কথা বলার আগে সমাধানের কথা ভাবে। মিটিংয়ে তারা অভিযোগের তালিকা নিয়ে যায় না, বরং সম্ভাব্য পথ নিয়ে কথা বলে। এতে করে ধীরে ধীরে তাদের ওপর আস্থা তৈরি হয়। ম্যানেজমেন্ট বুঝতে পারে, এই মানুষটা শুধু কাজ শেষ করে না, সে সিদ্ধান্তে সহায়তা করতে পারে।
আরেকটি বড় কারণ হলো দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা। অনেক কর্মী অতিরিক্ত দায়িত্ব এড়িয়ে চলে, ভেবে যে এতে ঝামেলা বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে দায়িত্ব না নিলে দৃশ্যমানতাও আসে না। যাদের ওপর গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছেড়ে দেওয়া যায়, তারাই ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ মানুষে পরিণত হয়।
এক্সিকিউটিভ থেকে লিডার হওয়া মানে হঠাৎ করে বস হয়ে যাওয়া নয়। এটি ধীরে ধীরে নিজের চিন্তা, আচরণ এবং সিদ্ধান্তের ধরন বদলানোর প্রক্রিয়া। যারা এই পরিবর্তনটা বুঝে নিতে পারে, তারাই ক্যারিয়ারের পরের ধাপে পৌঁছায়।


